সুসংবদ্ধ চিকিৎসা পরিষেবায় হোমিওপ্যাথি পদ্ধতি অন্তর্ভুক্তির জন্য কার্যকর ও সুদক্ষ কর্ম পরিকল্পনা

সুসংবদ্ধ চিকিৎসা পরিষেবায় হোমিওপ্যাথি পদ্ধতি অন্তর্ভুক্তির জন্য কার্যকর ও সুদক্ষ কর্ম পরিকল্পনা

নতুন দিল্লি, ১০ আগস্ট (TNA) জাতীয় হোমিওপ্যাথি কমিশন আইন ২০২০-র মাধ্যমে হোমিওপ্যাথি শিক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই আইনে হোমিওপ্যাথি এবং ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি তথা আধুনিক ওষুধপত্রের প্রয়োগের বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতিতে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আইনে এই সংস্থান রাখা হয়েছে। ২০২০-র জাতীয় হোমিওপ্যাথি কমিশন আইনে জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথির প্রসার সহ স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার রাজ্য সরকারগুলিকে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, চলতি বছরের ৫ জুলাই থেকে জাতীয় হোমিওপ্যাথি কমিশন আইন ২০২০ কার্যকর হয়েছে।

সুসংবদ্ধ চিকিৎসা পরিষেবায় হোমিওপ্যাথি পদ্ধতি অন্তর্ভুক্তির জন্য কার্যকর ও সুদক্ষ কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণে আয়ুষ মন্ত্রক একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

২৪টি গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান এবং ৬টি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কেন্দ্রের মাধ্যমে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতিতে বিজ্ঞানধর্মী গবেষণার প্রসার, হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা এবং প্রতিষ্ঠানগুলির মানোন্নয়নে সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন হোমিওপ্যাথি সংস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ক্যান্সার, মধুমেহ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মত অসুস্থতা প্রতিরোধের জাতীয় কর্মসূচিতে যোগের পাশাপাশি হোমিওপ্যাথিকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই লক্ষ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা জেলায় এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় দুটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচির সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই ক্যান্সার, মধুমেহর মত রোগ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কর্মসূচিতে হোমিওপ্যাথিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আয়ুষ মন্ত্রক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সহায়তাপুষ্ট জাতীয় আয়ুষ মিশন রূপায়ণ করছে। এই মিশনের মাধ্যমে হোমিওপ্যাথি সহ যাবতীয় আয়ুষ চিকিৎসা পদ্ধতির প্রসার ও মানোন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যগুলিকে আয়ুষ চিকিৎসা পদ্ধতির প্রসার ও মানোন্নয়নে জাতীয় আয়ুষ মিশনের নীতি-নির্দেশিকা অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হয়।

এদিকে, বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা পরিষেবায় আয়ুষ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্তির জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে অর্থ সাহায্য দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সমুদায়িক স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং জেলা হাসপাতালগুলিতে আয়ুষ চিকিৎসা পদ্ধতির সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বতন্ত্র আয়ুষ হাসপাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের অধীন নিম্ন-স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের আয়ুষ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলির মানোন্নয়ন করা হচ্ছে। যে সমস্ত রাজ্যে হোমিওপ্যাথি সহ আযুষ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নেই সেখানে এধরণের নতুন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে।

রাজ্যসভায় আজ এক লিখিত জবাবে এই তথ্য দেন আয়ুষ মন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।

Related Stories

No stories found.